কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০২৪

সুস্মিতা কর

 


সেই বইমুখো বিদ্যাসাগরী





নারী শিক্ষা? ওসব থাক মশাই

ভোট পাওয়ার ভাষণেই বেশ মানানসই।

সহধর্মিণী, সহকর্মিণী? ওসব থাকুক বেদে

চড়ুইয়ের ন্যায় ক্ষুদ্র কাজ করে রেঁধে সেঁধে।

             পড়ার সাধ জাগছে কারও কারও

             দে পাঠিয়ে ইস্কুলে, ওই যে বালিকা বিদ্যালয়!

             পারবে না কি বইতে মোটা মোটা বইয়ের বহর?

             দেখবে, বসে আছে বইটাকে মুখের উপর উলটায়...

যত্ত সব গাঁজাখুরি স্বপ্ন,

বলে শিক্ষিত হবে? আটবে রোজগেরের তমকাটা?

তা চুল খুলে পড়াশোনা হয়?

ও সব ছেলে ধরার যাতাকল, নষ্টা মেয়ে একটা।

              বলি শুনুন মশাই, গৌরীদানটা সেরে ফেলুন

              জানেনই তো এটা সবচেয়ে বড় দান!

              পড়ার ইচ্ছা থাকলে? সে স্বামী পড়াবে

              তাহলে সম্বন্ধ করুন, ভোজ খাওয়ান.....


বাজে সানাইয়ের সুর পিতৃগৃহে..... চড়ুইয়ের মতো-

এর ওর ঘুলঘুলিতে বাসা বাধেঁ নারী,

আজও সেই বইমুখো জীবনের অপেক্ষাতে

বিদ্যাসাগরের স্বনির্ভর নারী।



সুশান্ত সেন

 দি




দিন গুলো ছোট করে কেটে 

রাত গুলো বাড়িয়ে দিলে

ভালো হতো মনে হয়,

তাহলে ঘুমাবার সময় একটু বেশি হতো

আর হত্যা গণহত্যা খুনোখুনি হানাহানি ইত্যাদি

সকল মনুষ্য বৃত্তি গুলি

কিছু টা লাগাম পরে আস্তাবলের ভেতর 

থেকে যেত কিছুক্ষণ।


ফোয়ারার জল খেয়ে

চিহি চিহি ডাক ছেড়ে সময় কাটাত 

বেশ কিছুটা কাল।


এই ভেবে যেই একটু কম্বল জড়িয়ে 

শুতে গেলাম, 

শুনতে পেলাম দরজায় কারা কড়া নাড়ছে।



দিলীপ পন্ডা

অভিমান



তোমাকে নিয়ে আমি একবার একটি গান লিখে

পাঠিয়েছিলাম।আজ আবার একটি গান

বাতাসে ভাসিয়ে দিয়ে বসে আছি

তোমার ধ্যানে  মিশে যাওয়ার জন্য।


জন্মদিন এলে

জন্মদিন চলে গেলে

তোমার সমগ্র সস্তায় নামিয়ে আনি

তুমি বসে থাকো চুপচাপ,ধ্যানস্হ।

তোমার জন্য কেউ আসন রাখেনি

তোমার জন্য কেউ মালা গাঁথেনি!

একমাত্র  আমিই দাবি করছি---

আমিই তোমার উত্তরসুরী।


যে ভারতবর্ষ  তুমি হাঁটতে হাঁটতে রক্ত ঝরিয়েছিলে

সে তোমাকে  ঝালমুড়ির মতো বিকেলের সুর্যাস্তে

বিক্রি করে বসে আছে।

আমি আজ একবার দেখলাম

তোমার সেই অভিমানী মুখ

জানলাম সন্ন্যাসীরও অভিমান হয়।


গোপাল বাইন

মৃত্যু




-চলে গেল! বাঁচানো গেল না!

দু-একজন পরিজনের মৃত্যুতে

হাহাকারে ভরে ওঠে পরিমন্ডল।


-দাদু মারা গেল।এই তো দু-দিন হলো!

কোনো কোনো নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে

বসন্তের বাতাস ঝিরঝির করে বয়।


কোথাও মৃত্যু বুকের আগুন, কোথাও মঙ্গলঘট

সুদীর্ঘ ইতিহাসকাল থেকে হতাশা এবং প্রশান্তি

পাশাপাশি বহন করে নিয়ে চলেছে।


গৌতম কুমার গুপ্ত

আমাকে দেখুন 



এই আমাকে দেখুন আধুনিক হতে গিয়ে আমি এখনও সেই পুরোণো হারকিউলেসে

যার প্যাডেল খুলে পড়ে গেছে চৌরাস্তায়

কোনরকমে ঠেলেঠুলে আমলৌকা এস এন  ব্যানার্জি পেরিয়ে তিলক রোডের আটের চব্বিশে

তার মধ্যেই বার চারেক খুলে গেছে চেন

ঢিলেঢালা ব্রেক নিয়ে পৌঁছে গেছি অবশেষে


প্রতিটি আটটা সাতটা টাইমপিসে নিত্যযাত্রীর তেলচিটে ব্যাগ নিয়ে

দাঁড়ভাঙা চিরুণি টুথব্রাশ দাঁতের মাজন

বাঁকুড়ার চার বাই তিন তোয়ালে গা্মছা ইত্যাদি

অনেকগুলো রোটারি পেরিয়ে সেই কোলফিল্ড কয়লাধূলোর রোড লেভেলক্রসিংয়ে আটকে থাকা হৃদপিন্ড নিয়ে ছুটে গেছি অফিস করণিকের দপ্তরে

স্টিল টাউনসিপ থেকে এক কুড়ি চার কিলোমিটার দূরে

ফুসফুসে আটকে গেছে কার্বন সিলিকোসিসের অণু পরমাণু


ক্রমে ক্রমে কেটে গেছে ষোলো ইনটু তিনশো পঁয়ষট্টির দিনের সালতামামি

কলিয়ারির চানক টবগাড়ি বেষ্টিত লোহার বেড়ি

চিমনির ভোঁ

এইসব পরিক্রমণ সেরে যখন থিতু হলাম বাণিজ্যিক শহরে

সাহিত্য সহবাসে কেটে যাচ্ছে সুশীল দিশারী হীরক নিখিল রাজীব কাকলির কাব্য অনুষঙ্গে

নয়নের আঠারো লাইনের রূপকল্পে

অমিত অরণ্যার কবিতার মায়াজালে

অলক্তিকার শব্দের মেটাফরে আত্মিক অনুভবে

আহা, এখানে জমে আছি বেশ বরফজমাটে শপিংমলে ফ্লুরোসেন্টের জাফরানি আলোয়


এখানে আমাকে সবুজ নয় বাদামি দ্যাখায় নাইলনের চেয়ারে

সে্ঁটে থাকি শ্রাবণে রিমঝিমে ও হেমন্তের অরণ্যে বসন্তের সোচ্চার পলাশ কিংশুকে

গ্রীষ্মের ভরদুপুরে ও ডিসেম্বরের শীতার্ত তোষক লেপে


জানিয়ে রাখি আমিও দু চার কলম লিখি

খুঁটে খাই অক্ষরের দানা

চর্ব্য চোষ্য অবশেষে বর্জ্য পড়ে থাকে কবিতা আবাসনে

যাপনের রঙেচঙে ফ্যাকাসে কিছু স্টিলজাত ছাই

আমাতে বর্তায়

ছাই মেখে বসে থাকি বহুরূপি হয়ে কবিমুখের  বহতা গরলে

আমি এখানে নদী খুঁজি স্রোত খুঁজি 

ইচ্ছা হয় বয়ে যাই স্রোতস্বিনী হয়ে

গালে হাত দিয়ে ভাবি সব্যসাচী মণিশংকর 

কে তিনি একই হাতে ভাস্কর কালু ডোম লোহার

পিনাকীর কবিতা কথকতা নিজামের নজরুল- কথা

কিভাবে ছুঁতে পারি ওইসব মেহগিনি টিকউডের দারুণ আসবাব

আমি যে আকর্ষহীন সামান্য গুল্মলতা

গোড়াতে সার ও জল চায় মাটির দোঁয়াশ

একা একা সেঁটে থাকি এঁটেলের দায়ে

জল ধরে রাখার পাশাপাশি উর্বরে নিমিত্ত ছোঁয়াচ

অন্তরীণে একাকি গুনগুনে গানের গুঞ্জনে মাথা দোলাই


মুক্তি সরকার

 লবণাক্ত ভালবাসা 




ভালবাসতেই যদি হয়

তবে ফুটপাতের ঐ অসহায় মেয়েটিকে ভালবাসো,

যাকে মাঝরাতের আঁধারে তুমি খুঁজেছিলে।

আর ঐ স্টেশনের শিশুটি,

ছেঁড়া ,নোংরা জামা পরে অ্যালুমিনিয়ামের থালা হাতে 

দুটো টাকা ভিক্ষা চাইছিল 

ওকে একটু ভালবাসো!

দুর্গাপুজোর ভিড়ে,ঈদের নামাজের পাশেই

ওরা ঘুরে বেড়ায়!

ভালবাসতেই যদি হয় 

তবে ঐ পরিচয়হীন শিশুটিকে, 

ডাস্টবিনে ফেলে গিয়েছিল 

কুকুরে একটি আঙুল ছিঁড়ে খেয়েছিল,

তবে প্রাণটা ছিল 

ওকে একটু ভালবাসো।

কোলাহলে না হোক,নিরিবিলি সময়ে।

এভাবেও প্রেম হয়।


পাপিয়া অধিকারী

 হারানো সুর




তোমার বুকের ভিতরের

সবচেয়ে সরু -

অন্ধকার গলিটার শেষে

যে দরজাটা ছিলো 

সেটা খটখট 

আওয়াজ করে বললাম,

আসতে পারি ? 


তুমি চোখ না তুলেই

নেল কাটার দিয়ে 

নখ কাটতে কাটতে

অনেকটা যেন 

অভ্যাস বশেই বললে,

হ্যাঁ,  এসো...। 


আসতে হলো একটা -

সুন্দর পুরনো সুগন্ধিত

পর্দা সরিয়ে । 


ঘরের ভিতর 

সবটাই অগোছালো নয় । 

এলোমেলো আর গোছগাছেরা

হাত ধরাধরি করে

কেমন যেন এক

মায়ার জাল বুনেছে । 


আর  -

ঘরের বাইরে

সুগন্ধিত পর্দার ওপার থেকে

ভেসে আসছে,

বিরহ বাঁশির করুণ সুর । 


ফেরার আর উপায় ছিলো না।


তুমি চোখ না তুলেই বললে,

চা খেতে চাইলে - 

রান্নাঘরে যেতে হবে।


সেই  তোমার একলা ঘরকন্নার

একচিলতে রান্নাঘরে 

অনুপ্রবেশ ...  অভ্যেস। 


ভালবাসারও অভ্যেস। 

হ্যাঁ,  ভালবাসাও তো অভ্যাসই।


সেই অভ্যাসেরই হাত ধরে 

বহু পথ চলার পরে 

আজ তোমাকে

হারিয়ে ফেলেছি । 


আমি তোমার পাশেই আছি। 

তুমিও আছো পাশেই । 

শুধু -

মাঝে আছে

সেই  সুগন্ধিত পর্দাটা ।। 


মনোজ চৌধুরী

 দুঃখগুলো আমাকে পুষে রাখতে হয় 







আমি তাদের হাত নাড়িয়ে তাড়িয়ে দিতে পারি না

গলা টিপে মেরে ফেলতে পারি না

বিষ খাইয়ে ঘুমিয়ে দিতে পারি না

চোখের জল থেকে বিবিক্ত করতে পারি না


বিক্ষত শরীরে জড়িয়ে নিতে হয় 

টুকরো হৃদয়ে গেথে নিতে হয় 

শব্দবন্ধনে বেঁধে নিতে হয় 

আমাকে দুঃখগুলো পুষে রাখতে হয় 


আমি তাদের উপেক্ষা করতে পারি না

তার শিরচ্ছেদ করতে পারি না

চৌকাঠের বাইরে করতে পারি না

আমাকে দুঃখগুলো কুড়িয়ে রাখতে হয়

আমাকে দুঃখগুলো পুষে রাখতে হয়। 


সুপ্তিতা কুণ্ডু


  নীরব বলিদান  



দুর্গম পাহাড় চিড়ে গিরিখাত রচনার সাহস রাখে--

শৈশবে সে এমনই দুরন্ত ও অকুতোভয় ।


ক্ষীণ কটি কিশোরী স্রোতস্বিনী কে 

পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে চোখে হারাই আমরা... 


কিশোরীর মন জুড়ে থাকে ,

উচ্চতমর দেওয়া ভালোবাসা উজাড় করে ..

বিলিয়ে দেওয়ার ঐকান্তিক ইচ্ছা  ! 


সমস্ত বাধা বিঘ্ন কাটিয়ে- সে যখন দুশ্চিন্তা মুছে

শান্ত  প্রবাহে একের পর এক জনপদ 

পার হয়ে যায়...

দু- কূল ভরা মমতা নিয়ে 

আড়ে ও বহরে সে তখন যৌবনা  ;

ঠিক তখনই  ' মা ' শিরোনামের 

মহার্ঘ্য বাতাস এসে ছলাৎ  ছলাৎ  ঢেউ তোলে..

বাৎসল্যের পরিপূর্ণ আঁচল জুড়ে ।


যদিও চিরকাল কিভাবে যেন  

লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায় মাতৃ নির্যাতনের 

স্পষ্ট চিহ্নগুলো...


বাদবাকি, জীবনের অন্তিম অধ্যায়ে - 

বড় শ্রান্ত গতিপথে সে ক্রমশ:  শোনে ..

সাগরের ফেনিল অট্টহাস্যে তার নিজস্বতার লোপাট


ধীর লয়ে বিলীন হয়ে যাওয়া 

খরস্রোতা চঞ্চলার নীরব বলিদান !








সেমিমা হাকিম


ডুব সাঁতার



কিছু কিছু চিহ্ন সংকেতে চোখ পড়লে মনে পড়ে বিস্মৃত কোন প্রেমিকের কথা। হাসি পায় নিজের বালখিল্যতায়। 

ওরকম উপুড়চুপুড় ভালোবাসাবাসি থাকে একমাত্র দিগন্ত আর আকাশে, 

সৈকতে আর সমুদ্রে, 

জীবনে আর মরণে।  


প্রতিবারই
ভণিতা ছিল না কোন,

আবরণ খুলে খুলে দেখিয়েছিলুম মনের সমস্ত কানাগলি;

ডেডএন্ড যাকে বলে, বোঝ তো?


প্রতিবারই দেখেছি,

তিল আর তিলেকের প্রভেদ করতে যখন শিখে যায় আমার প্রেমিক- 

খেলনা ভেবে ফেলে সম্পর্কেকে;

যাকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলুম দুজনে

একসময় ভেবে নেয় থাকা না থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারার অধিকার শুধু তার!

কারোর অভ্যেস হয়ে যায় ক্ষতবিক্ষত করার অজুহাত,

কেউ নতুন খেলনা খোঁজে শিশুকাল স্মরণ করে,

কারোর মন উঠে যায় প্রেম থেকে,

আমার কোন কিছুই বা বলতে পারো আমাকেই আর পছন্দ হয় না তখন।


প্রতিবারই নিজের মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে ঘর ছেড়েছি।


প্রতিবারই নিজের শেষকৃত্য শেষে 

অঝোরে বৃষ্টি নামিয়েছি , 

হাড় মাস মজ্জার জ্বালা ভুলেছি,

ধুয়েছি 

মুছেছি

এবং আবারও গড়েছি নিজেকে।


তারপর নরম মাটির মতন স্নিগ্ধতায় খুঁজে সৃজন করেছি নতুন প্রেম।

 

প্রতিবারই...

.

.



সম্পাদকের কলমে

মাস আসে মাস যায়। বছর গড়ায় বুলেট ট্রেনের গতিতে। নিরীহ মানুষ, হাভাতে মানুষ, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ থাকে তার নির্দিষ্ট ঘূর্ণি আবর্তে। পৃথিবীর...