মাস আসে মাস যায়। বছর গড়ায় বুলেট ট্রেনের গতিতে। নিরীহ মানুষ, হাভাতে মানুষ, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ থাকে তার নির্দিষ্ট ঘূর্ণি আবর্তে। পৃথিবীর এক প্রান্তে দিন, অন্য প্রান্তে রাত্রির মতই এক দিকে আনন্দের উচ্ছ্বাস আর অন্য দিকে শোকের কালো কাপড় জড়িয়ে চলার নামই জীবন। ঋতু বদল হয় রোজনামচার খাতায়। যাই যাই করেও বারবার ফিরে তাকিয়ে, নাকের জলে-চোখের জলে পরিপার্শ্ব ভিজিয়ে, ভয়ানক অনিচ্ছায় শীত কিছুতেই যেতেই চাইছিল না। আর বসন্তও তার লাজুক স্বভাবের পেটেন্ট নেওয়া লালিত্য ছেড়ে ঠেলেঠুলে শীতকে তাড়িয়েও ঢুকে তার নির্ধারিত সময়ে মৌরসীপাট্টা গড়ে তুলতে পারছিল না। তবুও সব কিছুই ক্ষণস্থায়ী, যেতে হয় সবাইকেই একদিন। ব্রহ্মান্ডের এই সারসত্য মেনে নিয়েই টুক করে মিষ্টি রোদটা লাফিয়ে পড়লো ধানমাঠের ভিজে ভিজে আলে, শহরের রোমান্টিক পাইথন রঙা রাজপথের পিঠে। আর অমনি তাকে খপ করে ধরে ওই উঁচু শপিংমলের আয়না জানলা ঠিকরে ছুঁড়ে ফেললো মাথা নিচু করে হেঁটে যাওয়া সারা বছর কুঁকড়ে মুকড়ে থাকা মানুষগুলোর মাঝে। কান্ড দেখে সদ্য ঘুম ভাঙা পলাশ আর কৃষ্ণচূড়া ফিকফিক করে মুচকি হেসে বাসন্তিক শো এর জন্যে তৈরী হতে শুরু করলো। উছলে লাফিয়ে উঠলো ছোট্ট ফ্ল্যাটবাড়ির ক্ষুদের দল, মাটির বাড়ির ক্ষুদের দল, সামনের সানাই এর প্রতীক্ষায় থাকা লাল-সবুজ জীবন্ত বসন্তের দল। ওদের যে আপাত পরীক্ষা শেষ। খুব বড়দের ধারেকাছে সেই রোদ্দুর ঘেঁষে না। ওদের যে ইচ্ছে করলেই, দেখা হলেই ভ্যালেন্টাইনস্ ডে। ওদের যে বসন্তের উচ্ছলতার মাঝেও হিসেব নিকেশ শেষ হয়না। তাই বলে কি রোদ্দুরের মনখারাপ হয়না? হয় বৈকি, তারও মনখারাপ হয়। যে ছেলেটা কোনোদিন নিজের খালি গা ঢাকতে পারেনি একটাও নতুন জামায়, যে মেয়েটা শুধুমাত্র একটু বিশ্বাসের ভুলে বিক্ষত শরীর নিয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে, যে লোকটার দাদন শোধ হয়নি বলে নবান্ন হয়নি কিম্বা অপ্রতিরোধ্য ক্ষয় নিয়েও যাকে রোজকার বোঝা মাথায় তুলে টালমাটাল পায়ে এগিয়ে যেতে হয়, তাদের জন্যে চিকচিক করে তারও চোখের কোল। তখন আকাশে কালো হয়ে আসে মেঘ। রাগে নিস্ পিস্ করতে করতে একসময় হা হা শব্দে হেসে উঠে পাগলের মত মাথা নাড়তে শুরু করে সে। আর ওমনি শুরু হয় কালবৈশাখী। ব্যাস! শুধু এই না চাওয়া টুকু বাদ দিলেই স্যাঁতস্যাঁতে ছায়া ছায়া অন্ধকার উধাও। ভালোলাগা জড়িয়ে একে একে আসে রঙবাহার হোলি, উত্তেজনার চড়ক, পয়লা বৈশাখ, রবিপ্রণাম। আর ভালোলাগার মানুষ বা মানুষীর আড়চোখের চাউনি যদি মিশে যায় তার মাঝে! তাহলে পৃথিবী শান্ত হয় নিস্পাপ অনুরাগে।
অক্ষর বৃত্তও বাসন্তিক শুভকামনা জানাচ্ছে পরম অনুরাগে তার প্রিয় পাঠক ও স্রষ্টাদের।
শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০২৪
সম্পাদকের কলমে
শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৩
সম্পাদকের কলমে
শরৎ পার হয়ে হেমন্তে পা রাখলাম আমরা। উৎসব সময় আমাদের ঘিরে রেখেছে ওতপ্রোতভাবে। আপাত আলোর রোশনাই, গান, খাওয়া, নতুন জামার আনন্দ উপভোগ করতে পারছি এই বিশাল গ্রহের এক অংশের মানুষ। শারদ আনন্দ চলছে তবুও তার মধ্যেই কিছু ম্লান মুখ আমাদের শান্তিকল্যাণে দুঃস্বপ্নের মত ঘুরেফিরে আসছে। সিকিম সহ বাংলার উত্তর প্রান্তের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কয়েকদিন আগের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধ্বংসলীলায় বিধ্বস্ত। প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ এবং আমাদের রক্ষাকারী দেশের সুযোগ্য সন্তান সেনাবাহিনীর এক অংশ। সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে কষ্টার্জিত বহু সম্পদ। আমাদের দেশের কিছু দূরবর্তী উত্তর অংশে দুটি দেশে চলছে ভয়াবহ যুদ্ধ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পাঞ্জা কষার খেলায় লক্ষ সাধারণ নিরীহ মানুষ অকালে মারা যাচ্ছেন, চিরকালের জন্য পঙ্গুত্ব প্রাপ্ত হচ্ছেন। ন্যূনতম প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ পাচ্ছেন না তাঁরা। এই আক্রান্তদের প্রায় পঁয়ষট্টি শতাংশ মানুষ শিশু ও মহিলা, যাঁরা কেন যুদ্ধ চলছে তাই জানেন না। ভয়ঙ্কর লোভে উন্মত্ত পৃথিবী। আর এর মধ্যেই ফের প্রকাশিত হল অক্ষর বৃত্ত।
সময়ের প্রকোপে আমরা মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করতে অক্ষম হয়েছি। তবুও সাহিত্যের প্রতি, সমাজের প্রতি, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায় আমরা ফিরে এসেছি ওয়েবজিন সংখ্যায়। অসংখ্য কবি, লেখক তাঁদের মূল্যবান লেখা পাঠিয়ে আমাদের পাশে থেকেছেন এবারেও। সব লেখা আমরা প্রকাশ করতে পারিনি মানদণ্ডের কারণে। তবুও তার মধ্যেই যেটুকু পেরেছি তার জন্য সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমাদের সাহিত্য সমাজের প্রাপ্য।
"আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে / তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে / তবু প্রাণ নিত্যধারা, হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,/ বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে / তরঙ্গ মিলায়ে যায় তরঙ্গ উঠে, / কুসুম ঝরিয়া পড়ে কুসুম ফুটে / নাহি ক্ষয়, নাহি শেষ, নাহি নাহি দৈন্যলেশ / সেই পূর্ণতার পায়ে মন স্থান মাগে॥" আনন্দ ও বেদনা, মিলন ও বিরহ, আগমন ও বিদায়, আর পুনরাগমন ও পুনর্মিলন, প্রতিটি বছর আমাদের জীবন সারাংশেরই পুনরাবৃত্তি। আমাদের এই আনন্দ সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময়ে সেটির উজ্জ্বলতর মুহূর্তগুলোর প্রত্যাশায়ই আরেকবার শুরু করি এই প্রত্যাশায় যে পৃথিবী আবার শান্ত হবে।
মানুষ ভালো থাক, বাংলা ভাষা বিশ্বের সাহিত্য জগতের আনন্দ সভা আরেকবার আলোকিত করুক অক্ষর বৃত্তের এই শুভকামনা ধ্বনিত হোক বাংলা সাহিত্যের পাঠক সমাজের কাছে। পাশে থাকুন সাহিত্যের।
বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২
অক্ষর কথা
অক্ষর কথা
ভালো আছেন বন্ধুজন! ভালো আছে আপনার চারপাশ, প্রকৃতি,
রক্তের এবং না-রক্তের সম্পর্কের আপনজনেরা!
সদ্য রোগমুক্তির আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু রাস্তায় হাঁটছে
আমাদের গোলোক। দীর্ঘ দু বছরের বেশি কত অসুস্থতার খানাখন্দে পা পড়ে গিয়েছিল আমাদের
প্রায় অধিকাংশের। কত মৃত্যু ছুঁয়ে চলে গেল একের পর এক। মৃত্যু মিছিল। তবুও ওই যে
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে উদ্ধৃত করে বলা যায়, "মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে
ঘর করি…"। কতখানি আত্মবিশ্বাস থাকলে এই শব্দসকল দৃঢ় উচ্চারণের সঙ্গে বলা
যায়। আর সত্যিই তো, আমরা এটা প্রমাণ করে দিলাম যে মানুষ যদি লক্ষ্যে স্থির থাকে
তাহলে তাকে সাময়িকভাবে কাবু করা যায় মাত্র, কিন্তু মেরে ফেলা যায় না।
অনেকদিন বৃষ্টির পরে রোদ্দুর উঠলে আকাশ হা হা করে হেসে
ওঠে। ছলবল খলবল করে হাসতে হাসতে রাস্তায় নেমে আসে দুরন্ত প্রজন্ম। মুখের ক্লিষ্ট
ছায়া, শরীরের সকল দৌর্বল্য অগ্রাহ্য করে খোলা হাত ছুঁড়ে দিয়ে আনন্দ মহরতে সামিল
হয় অদম্য মানুষ। মানুষই পারে সব প্রতিবন্ধকতা জয় করতে তা বহুযুগ ধরে বারবার
প্রমাণিত।
২০১৯ এর শেষ থেকে ২০২২ এর সম্মুখভাগ পর্যন্ত বহু মানুষ কাজ
হারিয়েছেন, নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে কত পরিবার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ছোট দোকানী, ছোট
কারখানার কর্মঠ তার সঠিক হিসাব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু পিছনের দিকে না তাকিয়ে নতুন
করে শুরু করেছে কতিপয় মুষ্টিবদ্ধ হাত। আর সেই সম্মিলিত হাতের জোর বাধ্য করেছে
মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাজকে তার অনুগত করতে।
আগে অনেকে হাহুতাশ করতেন, এখনো করেন আজকাল মানুষ নাকি বই
পড়ে না, ছাপার অক্ষরের থেকে মোবাইলের যান্ত্রিক ছবির প্রতি আকর্ষণ এতটাই বেশি যে
বইসাম্রাজ্য ধ্বংস হতে চলেছে! কত হতাশা, কত কষ্ট শব্দ হয়ে বেরিয়ে এসেছে, স্মৃতি
বিধুর হয়ে উচ্চারিত হয়েছে শৈশব, কৈশোর, যৌবনের উদ্দীপ্ত ছাপার অক্ষরের দাপিয়ে
বেড়ানোর রুদ্র গল্প। মনে হচ্ছিল মুদ্রিত বই, পত্রপত্রিকার দিন বোধহয় সত্যিই শেষ
হয়ে গেল। আর তখনই সব অন্ধকার নিরাশাকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে এসে গেল রোগমুক্তির
ডংকা দু হাজার বাইশের বইমেলা।
একটি বহুল প্রচারিত সর্বভারতীয় সংবাদপত্র টাইমস অব
ইন্ডিয়ার খবর দেখুন - "The 45th International Kolkata Book Fair — one of
the city’s most-loved annual events that had been stalled for two years due to
the pandemic — ended on a celebratory note at Central Park with the footfall
crossing 1.5 lakh on Sunday. While roughly 18 lakh visited the fair this time,
books worth Rs 20 crore were sold at the two-week event — substantially higher
than that of the last fair, held in 2020." অর্থাৎ মুদ্রিত বইয়ের ইতিহাসে
ছাপিয়ে গেছে বই বিক্রির সব হিসাব, অতিক্রম করেছে রেকর্ড। বহু নতুন প্রকাশন সংস্থা
এসেছে, এসেছে অনেক নতুন পত্রিকার রঙদার প্রচ্ছদ। এ তো শুধুই আশার আলো নয়, এ তো
উজ্জ্বল রোদ্দুরের ঝলক!
আর এই আশা থেকেই আমরা এগিয়ে চলেছি, চলবে আগামীর মানুষ,
আগামীর ছাপার অক্ষরেরা। অক্ষর বৃত্তের পক্ষ থেকে অফুরান শুভকামনা আমাদের সব
ভাষাভাষী লেখক ও পাঠকদের। ভালো থাকুন, ভালো থাকুন এবং অনিবার্যতায় ভালো থাকুন সবাই
অন্যদের হাতে হাত রেখে। জয় হোক মানুষের।
সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১
অক্ষর কথা
দিন দুয়েক জল ঝরিয়ে আকাশ ফের চুপচাপ। এই বাংলা বর্ষ জুড়ে বৃষ্টিপাত একেবারেই ভালো হয় নি। আশায় বাঁচতে বাঁচতে চাষা মাথা নুইয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। প্রকৃতির উত্তাপ বেড়েই চলেছে ক্রমান্বয়ে।
তবুও প্রকৃতিকে কিছুটা হলেও মোকাবিলা করা যায় সম্পন্নের বাতানুকূল যন্ত্রে, নিম্ন মধ্যবিত্তের ঝেড়েমুছে চালানো যান্ত্রিক পাখায়, গরীবের হাত পাখা, বেলের পানা, লেবু জল আর প্রাচীন প্রাকৃত গাছের ছায়ায়। কিন্তু মানুষের তৈরী উত্তাপকে সামাল দেবে কার এত বুকের পাটা!
মানুষের তৈরী উত্তাপ আসলে বাড়তে থাকা লোভের আগুনের ঝলক। রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনী খেলা। আসরে তাল ঠুকে নেমে পড়েছে বিভিন্ন রণংদেহি রাজনৈতিক দল। এখন সব জিনিস, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির মতই রাজনীতিরও বেহাল দশা। সেই মানের হিমালয় সদৃশ নেতা নেত্রীর বড়ই আকাল। ফলে ক্ষমতা কায়েমের বিপুল লিপ্সায় আকাট জনতাকে লড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পরস্পরের বিরুদ্ধে। বাড়ছে উত্তাপ।
গত উনিশের শেষ মাস থেকে যে মহামারী পৃথিবীকে নিজের থাবার তলায় নিয়ে গেণ্ডুয়া খেলতে শুরু করেছিল, তাকে আজও শান্ত করা যায় নি। দৈনিক আক্রান্ত আর মৃত্যুর হার পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বাড়ছে আশংকার, ভয়ের উত্তাপ। তবে আশার কথা একটাই এখন মানুষের হাতে এসে গেছে প্রতিষেধক। যদিও তা কতখানি কার্যকরী সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সময় এখনো আসে নি।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই দীর্ঘ সময় পরে আবার প্রকাশিত হলো অক্ষর বৃত্ত। পাঠকের ভালোবাসা, স্রষ্টার ভালোবাসা অস্বীকার করতে পারে না অক্ষর বৃত্ত। তাই লেখা আহ্বান থেকে শুরু করে প্রকাশ পর্যন্ত এবং পাঠকের স্পর্শানুভূতি পাওয়ার জন্য আপনাদের হাতে এলো আপনাদের আপন ভালোবাসাজন অক্ষর বৃত্ত।
ভালো থাকুন সবাই। আনন্দে মৃদুমন্দ হাওয়ার তালে প্রতিদিন আসুক সবার জীবনে। শুভ হোক নতুন বছর।
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০
অক্ষর কথা
ঘোর দুঃসময়। যতদূর চোখ যায় আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা। এক থেকে দুই, দুই থেকে চার হয়ে শত পেরিয়ে হাজারের কোঠায় তিরিশ, বত্রিশ, পঁয়ত্রিশ, আটত্রিশ প্রত্যেক সকালে লাফিয়ে লাফিয়ে সংখ্যাটা বেড়েই চলেছে। অসহায় মানুষের নাকের ডগায় রীতিমতো কাচকলা দেখিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক। এ সেই সকাল যা রাতের চেয়েও অন্ধকার।
অথচ এরকম হওয়ার কথা ছিল না। আদ্যিকালের প্রাচীন প্রস্তরযুগের মানুষ যখন শুধুমাত্র খাবার জন্য প্রাণীহত্যা করতে শুরু করেছিল, তখন সেও জানত না একদিন তার ভয়ংকর সভ্য উত্তরপুরুষদের আদিগন্ত বিস্তৃত লোভে ছারখার হয়ে যাবে সুন্দরী সবুজ নীল কমলা পৃথিবীর ভারসাম্য। মানুষ খাওয়ার প্রয়োজন ছেড়ে অকারণে নিজের সৌন্দর্য, বাসস্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য লক্ষ লক্ষ প্রাণ নিতে শুরু করে দিল। আকাশ, হাওয়া, জল, জঙ্গল, পাহাড়, মরুভূমি সবকিছু নিজের বর্জ্যের দূষণে ভরিয়ে বিপন্ন করলো এই গোলকের অন্য সন্তানদের। প্রকৃতি অনেক সহ্য করার পরে একদিন নড়াচড়া শুরু করতেই হাহাকার পড়ে গেল সভ্য মানুষের মধ্যে।
এই ভয়াল মুহূর্তে যখন অক্ষর বৃত্ত চৈত্র ওয়েবজিন সংখ্যা প্রকাশিত হতে চলেছে, আমরা তখন জানি না নিকট বা দূর আগামীতে আমাদের ভবিষ্যৎ কি! উদ্বিগ্ন হয়ে আছি। এই করোনা বিপর্যয় তো শুধু রোগের জীবাণু শেষ হওয়াতেই শেষ হবে না। অর্থনৈতিক মন্দা ছেয়ে ফেলবে পৃথিবী। আগামী দিনগুলো ভয়ঙ্কর ধূসর। আসন্ন দিনের এক প্রারম্ভিক আভাস ইতিমধ্যেই পেতে চলেছে হতভাগ্য মানুষ। কোটি কোটি দিনআনা দিনখাওয়া মানুষ লংমার্চ করছেন রাস্তায় সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাঁদের রুটিরুজির সর্বশেষ ঠিকানা হারিয়ে। আর কিছুদিন এভাবে চললে আরও এক ভয়াবহ মন্বন্তরের মুখোমুখি হব আমরা। তখন যাদের বিপুল পরিমাণে অর্থ সম্পদ জমেছে তীব্র শোষণের ফলে, সেই সম্পদও কোনো কাজে আসবে না।
তবুও মানুষ আশা ছাড়ে না। যত আক্রান্ত হয়েছে তাদের এক অংশকে আস্তে আস্তে জীবাণুদের কবল থেকে ছাড়িয়ে সুস্থ করে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে সফল হচ্ছে সেই অপ্রতিরোধ্য মানুষ। আমরা আজ সাহিত্যের আলোচনা করতে অক্ষম। আজ মানুষের বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে। আমরা জানি আমরা জিতব, আমরাই জিতব, আমরা জিতবই। যেদিন সম্পূর্ণ সুস্থ মানসিকতার পৃথিবী পাব, কেবল সেদিনই ফের ফিরে পাব মানুষের জন্য সুস্থ সাহিত্যের পরিবেশ। ততদিন আসুন হাতে হাত বেঁধে থাকি। মানুষের জয় হোক।
সম্পাদকের কলমে
মাস আসে মাস যায়। বছর গড়ায় বুলেট ট্রেনের গতিতে। নিরীহ মানুষ, হাভাতে মানুষ, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ থাকে তার নির্দিষ্ট ঘূর্ণি আবর্তে। পৃথিবীর...
-
সুলেভান গোমস্ সুলেভান গোমস্ কে, আমি তার কী জানি? হ্যাঁ, আমি হয় তো তাকে দেখেছি। কিন্তু তাকেই যে দেখেছি, সে কথা আজও অনেকে মানতে চাইছে না। ...
-
মাস আসে মাস যায়। বছর গড়ায় বুলেট ট্রেনের গতিতে। নিরীহ মানুষ, হাভাতে মানুষ, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ থাকে তার নির্দিষ্ট ঘূর্ণি আবর্তে। পৃথিবীর...
-
সেই সব অবুঝের গল্প শেষবার নাঃ শেষতম বার শুদ্ধতার প্রসঙ্গে এসে হেরে গেলাম । হেরে যেতে কখনোই চাই নি বরঞ্চ বারবার জিতে যা...










